August 9, 2026, 8:55 am
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি : ‘পাকা ধানে মই’-এ প্রবাদ বাক্যের মতোই মনে হয়। এবার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের বোরো চাষীদের অবস্থা। বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাবে কৃষি শ্রমিকের সংকটের সাথে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি এবং অকাল বন্যায় আধাপাকা ধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তলিয়ে যায়। উঠতি বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক। এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও ঝড়-বৃষ্টির হানা এবং জোয়ারের পানিতে তুলিয়ে যায় শতশত বিঘা পাকা ধানের জমি।
অনেকেই আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু করোনার প্রভাবে কৃষি শ্রমিকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে ৬০ ভাগ জমির বোরো ধান কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষক। বাকি ৪০ ভাগ ধান নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন তারা। আকাশে মেঘ আর বৃষ্টিপাত থেমে থেমে হচ্ছে। মে মাসের শেষ দিকে জোয়ারের পানি গুমানী নদী ভরে বিলে ঢুকে পাকা বোরো ধানের জমি তলিয়ে দেয়। এরআগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফালের কারণে একদফা বোরো ধানের ক্ষতি হয়। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানের জমি নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখতে থাকে কৃষক। করোনার প্রভাবে কৃষি শ্রমিক মিলছে না। যাও পাওয়া যাচ্ছে, তাদের দিতে হচ্ছে চড়া মজুরী। ৭০০/৮০০ টাকা মজুরী দিয়েও কামলা পাওয়া যাচ্ছে না।
হান্ডিয়াল ইউপি চেয়ারম্যান কে এম জাকির হোসেন জানান, হান্ডিয়াল ইউনিয়ন চলনবিল অধ্যুষিত। এখানকার প্রধান ফসলই বোরো ধান। এবার অধিকাংশ কৃষকের ধান তলিয়ে গেছে। অনেকে ধান কাটতেই পারেননি। অর্ধেক ফসলও ঘরে তুলতে পারবেন না চাষী। এ যেন কৃষকের পাকা ধানে মই।
চাটমোহর হান্ডিয়ালের কৃষক আঃ মমিন বলেন, এখনো পুরোপুরি ধান কাটা শেষ হয়নি। ধানের ফলনও ভালো ছিলো, বাজারে দামও ভালো। আকাশে মেঘ। রোদ মিলছে না। কামলা (কৃষি শ্রমিক) না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। কী হবে আল্লাহই জানেন।’ হান্ডিয়ালের হোসেনপুর গ্রামের কৃষক ছোরাপ আলীর ৭ বিঘা জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যায়। অর্ধেক ধানও কেটে তুলতে পারেননি। বললেন, হঠাৎ করেই গুমানী নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে গেছে। নদীর পানি বিলে ঢুকেছে। কী করবো আমরা। উপজেলার খলিসা গাড়ী বিলের অনেক ধানের জমিই এখন পানির নিচে। কৃষক রাত দিন ধান তুলতে ব্যস্ত। একই অবস্থা ডিকশী বিল, আফরার বিল, দরাপপুর বিল, নিমাইচড়া বিল ও বিলকুড়ালিয়াসহ অন্যান্য বিলের অবস্থা।
লাউতিয়ার কৃষক আনোয়ার হোসেন বললেন, বিলকুড়ালিয়া বিলের ধান তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কষ্টে পানির মধ্যে ধান কাটতে হচ্ছে। বিলের পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। ধানের জমি গ্রাস করছে কচুরিপানা। তাড়াহুড়া করে ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু কামলা মিলছে না। করোনাভাইরাসের কারণে অনেকেই আর ধান কাটতে আসছে না। নিজেরাই যতদুর সম্ভব ধান কাটছি। পার্শডাঙ্গার কৃষক শামীম আহমেদ বললেন, ডিকশি বিলের সব জমিই তলিয়ে গেছে। পানির মধ্যে ধান জকেটে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা চলছে। বিল থেকে গ্রামের সড়ক দিয়ে ধান তোলা যাচ্ছে। গরু বা মহিষের গাড়ি চলাচল দুঃসাধ্য।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল করিম জানান, চাটমোহরে এবার হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবার ধানের ফলনও বাম্পার। ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এ মাসুম বিল্লাহ জানান, হঠাৎ জোয়ারের পানি বেড়ে গিয়ে বিলে পানি ঢুকেছে। তবে রোদ হলে বেশী ক্ষতি হবে না।